হযরত মৌলানা ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ্ আল রাহে ভান্ডারী (মাঃজিঃআঃ)
 
 

উন্মুক্ত বেলায়ত যুগে কলেমার প্রত্যক্ষ দীক্ষাদাতা- হযরত মৌলানা ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ্ আল রাহে ভান্ডারী (মাঃজিঃআঃ) হলেন রাহে ভান্ডার দর্শনের বর্তমান দীক্ষাগুরু।

তিনি ৭ চৈত্র ১৩৫৮ বাংলা, ২১ মার্চ ১৯৬২ ইং, ১৪ শাওয়াল ১৩৮১ হিজরী, সকাল ১০ ঘটিকায় জন্মগ্রহন করেন এবং খেলাফত প্রাপ্ত হন তার পিতা হযরত মৌলানা ছৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল মালেক শাহ্ (কঃ)'র নিকট হতে অত্যন্ত ছোট বেলায়। তার মাতা মরহুমা ছৈয়দা ছাবেরা খাতুন (রঃ) রাহে ভান্ডার তরীকার একজন নিবেদিত প্রাণ অনুসারী ছিলেন।

তিনি আ'লা মিয়া মডেল স্কুল, কধুরখীল ইসলামী সিনিয়র মাদ্রাসা ও নজুমিয়া হাট- বুড়িশ্চর জিয়াউল উলুম মাদ্রাসা এবং রাঙ্গুনিয়া নুরুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা হতে প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেন।

মৌলানা ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ্ (মাঃজিঃআঃ)'র সূফী দর্শনে হাতে খড়ি হয় নিতান্ত কৈশোরেই। পিতা স্বনামধন্য পীর ছাহেব এবং মাতা ছাহেবানীও উক্ত তরীকার একান্ত অনুগত হওয়ায়, তার চতুর্পাশে সূফী ধ্যান জ্ঞান চর্চার এক নৈসর্গীয় পরিবেশে সদা বিরাজিত ছিল।

ছাত্র জীবনেই বাইয়্যাত কার্যক্রম পরিচালিত করার ঐশী তাগিদ পেতে থাকেন। তবে তা না করে তিনি আরও আত্মতাত্ত্বিক জ্ঞানার্জন ও ঐশী ধ্যান সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। সে সময় তিনি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের ন্যায় নানা রকম পেশাগত কর্মে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। তিনি ছোটবেলা হতে অতিশয় সদাচারী ও মিষ্ট ভাষী।

তিনি বেদ, রামায়ন, বাইবেল, ইঞ্জিল শরীফ ইত্যাদি অধ্যায়ন করেন এবং হিন্দু ধর্ম মতাদর্শের তাত্ত্বিক বিষয়ে বিশেষ পান্ডিত্য অর্জন করেন।

ছোট বেলায় আপন মুর্শিদ লোকান্তর হওয়া সে সময় অল্প বয়সী মৌলানা ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ্ (মাঃজিঃআঃ)'র তরীকার কার্যক্রম পরিচালনা বিষয়ে অনেকে কঠোর সমালোচনা করতেন। সে বিষয়ে আলাপ কালে আবেগাপ্লুত হয়ে সাহস ও উৎসাহ দিয়ে হযরত মৌলানা হাফেজ মোহাম্মদ হাশেম শাহ্ (কঃ) একদা বলে ছিলেন, 'তুমি নিজের কাজ কর। কেউ কিছু বললে; বলবে, তোমার মাথার উপর আমার হাত আছে'। হযরত মৌলানা হাফেজ মোহাম্মদ হাশেম শাহ্ (কঃ) ছিলেন দুল্হায়ে হযরত- মৌলানা ছৈয়দ ছালেকুর রহমান শাহ্ রাহে ভান্ডারী (কঃ)'র প্রথম খলিফা।

তিনি বহু দিন আরব আমিরাতের আল-আইনে এক প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করেন। তার ব্যবসায়িক দক্ষতা, যোগ্যতা, সততা আর যুগপোযোগী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ঐ প্রতিষ্ঠানকে এক ব্যবসা সফল সু-প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করেন।

তার হাতে প্রথম বাইয়্যাত গ্রহণ করেন-রাউজান নিবাসী রেহেনা আকতার রিনা আর প্রথম পুরুষ হিসেবে বাইয়্যাত গ্রহণ করেন- শাহাজাদা সাইফুল আলম নাইডু । বহু চড়াই উতরাই পার হয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন রাহে ভান্ডার তরুণ আশেকান পরিষদ (রাতআপ) নামের একটি সংগঠন ও 'নকশার সন্ধানে' নামের একটি নিয়মিত প্রকাশনা।

৩৭ বছর বয়সে মায়ের একান্ত ইচ্ছায় চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড থানার ফৌজদার হাটস্থ বড় বাড়ির সুলতান আহমদ ও ছায়েরা খাতুনের কনিষ্টা কন্যা ছৈয়দা নারগিছ আকতার এর সাথে ১৯৯৯ সালে তিনি বৈবাহি বন্ধনে আবদ্ধ হন।

কয়েক বছর পর আধ্যাত্ম সাধনা তথা আত্মকর্মে নিমগ্ন হয়ে অর্থ-বৈভব আর ভোগ বিলাসীতার দুনিয়াকে ত্যাগের সিদ্ধান্তে অটল এ আধুনিক যুগের মহান সাধক- ঐশী প্রেম উম্মাদনায় নিবিষ্ট চিত্ত-আত্মচৈতন্যদাতা- আমাদের প্রাণ প্রিয় পীর ও মুর্শিদ হযরত মৌলানা ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ্ (মাঃজিঃআঃ) স্থায়ী ভাবে স্বদেশে বসবাস আরম্ভ করেন। আল-আইনে থাকা কালেও শত ব্যস্ততা সত্ত্বে তিনি তরীকতের কার্যক্রম এবং স্বীয় ধ্যান-সাধনায় নিমগ্ন ছিলেন। যা পরবর্তীতে বিশিষ্ট সূফী সঙ্গীত শিল্পী প্রয়াত শাহ আলম (মুছার বাপ) এবং পরবর্তীতে তার হাতে বাইয়্যাত গ্রহণ করা মোহাম্মদ আলী আহম্মদ সহ বহু প্রবাসী বাংলাদেশীর মুখে জানা যায়।

এভাবে আজ মুর্শিদে কামেল রূপে আমাদের এ প্রাণ প্রিয় মুর্শিদ হযরত মৌলানা ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ্ (মাঃজিঃআঃ) কে আমরা রাহে ভান্ডার কধুরখীল দরবার শরীফে মানবতার সেবায় নিবেদিত মহান পুরুষরূপে দেখতে পাই। তিনি কেবল তাদেরই বাইয়্যাত করান যারা আল্লাহ রাছুলের পরিচয় সন্ধান করেন। যারা দুনিয়ার লোভ-লালসা ও সমস্যা সমাধানের জন্য তার নিকট আসে তিনি তাদের অপছন্দ করেন। তাঁর মতে তছবিহ- তাহলিল, নামাজ, রোজা, হজ্জ্ব, যাকাত এ সব পালনের জন্য পীরের পয়োজন হয় না। পীরের প্রয়োজন হয় আমি যা জানি না তা জানা ও আমি যা দেখিনাই তা দেখা ও বুঝার জন্য।

তিনি রাহে ভান্ডার আশেকান পরিষদ, রাহে ভান্ডার ওলামা পরিষদ, রাহে ভান্ডার তরুন আশেকান পরিষদ, রাহে ভান্ডার মাল্টিমিডিয়া ও রাহে ভান্ডার মরমী শিল্পী পরিষদ নামের আরো কতিপয় সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠন সমূহ তার নির্দেশনা মোতাবেক সমন্বিত ভাবে ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল, ওরছ উদ্্যাপন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সেমিনার, রক্তদান, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, গুনীজন সংবর্ধনা, অডিও ভিজুয়্যাল প্রেজেন্টশন, ক্যালেন্ডার প্রকাশসহ বহু বিধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। হযরত মৌলানা ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ্্ (মাঃজিঃআঃ) সদয় হয়ে বর্তমানে উক্ত সংগঠন সমূহের সার্বিক তত্ত্বাবধায়কের মহান দায়িত্ব পালন করছেন।

রাহে ভান্ডার মরমী শিল্পী পরিষদ ২০০৮ সালে অন্যানের সাথে তার লেখা ও সুর করা মোট ১০টি সূফী সঙ্গীত নিয়ে একটি অডিও সিডি ও অডিও ক্যাসেট প্রকাশ করে।

২০০৩ সাল হতে তিনি নিয়মিত 'মহাত্মা সম্মেলন' এর আয়োজন করে আসছেন । মাইজভান্ডারী তরীকার সকল ভক্ত-অনুরক্ত সহ সর্বস্থরের শান্তি প্রিয় জ্ঞানান্বেষী জনসাধারণকে আত্ম সচেতন করা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা করতে তার এ প্রয়াস। ২০১১ সালে তিনি একে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সম্মেলনে রূপান্তর করেন। উক্ত সালে 'THE UNIVERSAL SUFI FESTIVAL' নামে এ 'মহাত্মা সম্মেলন' দেশে বিদেশে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। ২০১০ সাল হতে তিনি মুসলিম ইনিস্টিটিউট এর থিয়েটার হলে প্রতি বাংলা মাসের ১০ তারিখ মাসিক ফাতেহানুষ্ঠান চালু করেন।

বর্তমানে বাথুয়াস্থ 'খানকায়ে রাহে মালেক ভান্ডার' নামের প্রাচীন খানকাহ্ শরীফ সহ তিনি আরো বহু খানকাহ্ পরিচালনা ও প্রতিষ্ঠা করেন। তৎমধ্যে সাম্প্রতিক কালে বন্দর থানার 'মালেক কুঠির', মোহরাস্থ 'মালেক মঞ্জিল' ও ছাগলনাইয়ার 'ছালেকীয়া হাশেমীয়া খানকাহ্ শরীফ' এর কার্যক্রম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

দীর্ঘকাল তিনি নিজে আধ্যাত্ম সাধনায় ব্যস্ত থেকে বহু মনীষীর সেবা করেছেন । আজ তার সে ত্যাগ সূর্যের দৃপ্ততায় তাকে উজ্জলতম দৃষ্টান্ত রূপে উপস্থাপন করছে। তার আধ্যাত্ম দর্শন, চারিত্র মাধুর্য্যে বিমোহিত হাজারো প্রভু প্রেমিক। অত্রাঞ্চলের শত শত সূফী ও ইসলামী গবেষকগণ আজ তার সমন্বিত কর্ম পরিকল্পনায় একাত্ম হয়ে গাউছে মাইজভান্ডারীর আজমিয়তের মহিমা প্রচারে তেজদৃপ্ত পদে অগ্রসরমান। তরীকতের দীক্ষাগুরু বা মুর্শিদ পরম্পরায় তিনি সাজরানুসারে ৪০ তম ক্রমিক পুরুষ। তার পীরগত সাজরা হযরত আলী (কঃ) হয়ে রাসুল (দঃ) এর সাথে মিলিত হয়।

আল্লাহ্ নফস বা দেহ ও রূহ সমন্বিত করে প্রতিটি মানবকে সৃষ্টি করেছেন। নফস রূহের কার্যকারিতার উপর নির্ভরশীল আর রূহ নির্ভরশীল আদি স্বত্তা 'আল্লাহ্' এর উপর। এ বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের মূল বা আদি স্বত্তা হলেন স্বয়ং 'আল্লাহ্। মৌলানা ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ্ (মাঃজিঃআঃ) এ সম্পর্কিত তার সৃষ্টি ও স্রষ্টার মধ্যকার সম্পর্কটিকে নিম্নের সমীকরণ দ্বারা ব্যক্ত করেন। যথা:

আল্লাহ্ > মোহাম্মদ > আদম > আদম সন্তান
অথবা
আদম সন্তান < আদম < মোহাম্মদ < আল্লাহ্

তিনি উল্লেখ করেন যে, এরূপ সৃষ্টি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা সৃষ্টি হয়েছি আল্লাহর একক ও অদ্বৈত স্বত্তা হতে। নিশ্চয় আমাদেরকে উক্ত আদি সত্তা আল্লাহ্তে ফেরত যেতে হবে। তা কেবল মাত্র মোহাম্মদী (সঃ) জীবনাতিবাহিত করেই সম্ভব। আর এটিই সিরাতাল মোস্তাকিম। আল্লাহ্ আমাদের সকলকে খাতেমা বিল্ খায়ের দান করুন। আমিন!!!

 

Content on this page requires a newer version of Adobe Flash Player.

Get Adobe Flash player

Content on this page requires a newer version of Adobe Flash Player.

Get Adobe Flash player

Content on this page requires a newer version of Adobe Flash Player.

Get Adobe Flash player

Content on this page requires a newer version of Adobe Flash Player.

Get Adobe Flash player

Content on this page requires a newer version of Adobe Flash Player.

Get Adobe Flash player

Content on this page requires a newer version of Adobe Flash Player.

Get Adobe Flash player

Content on this page requires a newer version of Adobe Flash Player.

Get Adobe Flash player

Content on this page requires a newer version of Adobe Flash Player.

Get Adobe Flash player

Content on this page requires a newer version of Adobe Flash Player.

Get Adobe Flash player

Content on this page requires a newer version of Adobe Flash Player.

Get Adobe Flash player

Content on this page requires a newer version of Adobe Flash Player.

Get Adobe Flash player

Content on this page requires a newer version of Adobe Flash Player.

Get Adobe Flash player

Content on this page requires a newer version of Adobe Flash Player.

Get Adobe Flash player

দরবারের পালিত দিবস সমূহ ঃ- ১০ মাঘঃ গাউছুল আজম হযরত মাওলানা ছৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (কঃ) এর 'বার্ষিক ওরছ মোবারক'***** ২২ চৈত্রঃ হযরত গাউছুল আজম ছৈয়দ গোলামুর রহমান বাবা ভান্ডারী মাইজভান্ডারী (কঃ)'র বার্ষিক ওরছ মোবারক***** ২৫ অগ্রহায়নঃ ওয়াছেলে গাউছুল আজম- হযরত আমিনুল হক ওয়াছেল মাইজভান্ডারী (কঃ) এর 'বার্ষিক ওরছ মোবারক'***** ৭ পৌষঃ দুল্হায়ে হযরত- ছাহেবুল অজুদুল কোরআন- হযরত মৌলানা ছৈয়দ ছালেকুর রহমান শাহ রাহে ভান্ডারী (কঃ) এর 'বার্ষিক ওরছ মোবারক'***** ৮ কার্তিকঃ আজাদে মোজাদ্দেদে জমান- হযরত মৌলানা ছৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল মালেক শাহ রাহে ভান্ডারী (কঃ) এর 'খোশরোজ শরীফ' ***** আগষ্ট ২৯ < > নবী দিবস - প্রতিষ্ঠাতা: রাহে ভান্ডার কধুরখীল দরবার শরীফের বর্তমান সাজ্জাদানশীন - আয়োজক: রাহে ভান্ডার কধুরখীল দরবার শরীফ ***** ২২ জ্যৈষ্ঠঃ আজাদে মোজাদ্দেদে জমান- হযরত মৌলানা ছৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল মালেক শাহ রাহে ভান্ডারী (কঃ) এর 'বার্ষিক ওরছ মোবারক'***** ৭ ভাদ্রঃ রাহে ভান্ডার কধুরখীল দরবার শরীফে 'মজমুয়া ওরছ মোবারক'***** ৭ চৈত্রঃ 'মহাত্মা সম্মেলন' Universal Sufi Festival